আবেদনপত্র ও সনদ
এখন যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের ফরম থেকে শুরু করে ভিসা, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন), ড্রাইভিং লাইসেন্স, পেনশন, পারিবারিক স্কিমসহ নানা ধরনের আবেদনপত্র পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। বাংলাদেশ সরকারের ই-সিটিজেন সেবা কর্মসূচির আওতায় শুধু প্রয়োজনীয় ফরম নিয়ে তৈরি হয়েছে www.forms.gov.bd সাইট। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়ই তৈরি করা হয়েছে সাইটটি। এতে ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিয়ে, জন্ম, বিবাহ, নাগরিক সনদ, সমবায় সমিতি, শিক্ষা, সরকারি সেবা, কর, লাইসেন্স ও অনুমতি, ইউটিলিটি, বৃত্তিসহ নানা ধরনের ও বিষয়ের ফরম রয়েছে। এসব ফরম মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাট (পিডিএফ) আকারে পাওয়া যাবে। নতুন টেলিফোন সংযোগ কিংবা ডায়ালআপ ইন্টারনেট সেবা, শিক্ষাবৃত্তি, মুক্তিযোদ্ধা সনদ, নাগরিক সনদসহ নানা বিষয়ের ফরম পাওয়া যাবে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও সব ফরম রয়েছে।
ই-টেন্ডার
সরকারের জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ওয়েব পোর্টালের ঠিকানা www.eprocure.gov.bd । এর মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে 'ই-টেন্ডার' কার্যক্রম। এখানে অনলাইনে দরপত্রের নথিপত্র দাখিলসহ সব প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে করা যায়। দরপত্র ক্রয় এবং এ প্রক্রিয়ার সবই আছে এখানে। তবে প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দরদাতাদের নিবন্ধিত হতে হবে। www.eprocure.gov.bd/help/regflowcharts/eGP_UserRegistration_bangla.pdf লিংক থেকে নিবন্ধনের নিয়ম জেনে সহজেই ই-টেন্ডারে অংশ নেওয়া যাবে। নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু করতে মূল সাইটের (www.eprocure.gov.bd) বাঁ দিকে New User Registration অংশে ক্লিক করতে হবে।
দিকনির্দেশনা পাবেন এ সাইটের 'ই-জিপি গাইডলাইন' অংশে। 'পিডিএফ' আকারের এ নির্দেশনায় দরপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম, ফি প্রদানের প্রক্রিয়া, কারিগরি ত্রুটি এড়ানোর কৌশলসহ দরকারি সবই আছে।
সাধারণত যে ১০টি ধাপে টেন্ডার করতে হয়, তার প্রায় সব কটিই এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা যায়। দরপত্র দাখিলকারীকে শুধু রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে যেতে হবে। প্রচলিত দরপত্রে সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, ই-টেন্ডার পদ্ধতিতে এসবের কোনো আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছেন বেশির ভাগ দরদাতা।
অনলাইনে নিবন্ধিত দরদাতা চাইলেই চালু করে নিতে পারেন স্বয়ংক্রিয় বার্তা সেবা 'অটো অ্যালার্ট'। এ সেবা চালু করলে ব্যবহারকারী মোবাইল এসএমএসে হালনাগাদ তথ্যাদি পাবেন। পাশাপাশি ওয়েবে লগ-ইন করলে ড্যাশবোর্ডের ইনবক্সে দরকারি বার্তা পাবেন। পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে ই-মেইলে (admin@eprocure.gov.bd) তক্ষুণি জানিয়ে দিন। ফিরতি বার্তায় সমাধান পেয়ে যাবেন।
অনলাইনভিত্তিক এ কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ক্রয় কর্মকর্তা ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য এবং ই-জিপি সাইট ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ধারণা পাবেন http://training.eprocure.gov.bd-এ। আর ই-টেন্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ই-মেইল করতে পারেন helpdesk@eprocure.gov.bd-এ।
কৃষি তথ্যসেবা
কৃষি তথ্যসেবার একাধিক ওয়েবসাইট রয়েছে আমাদের দেশে। শস্য, ফল, মৎস্য, পশুসহ প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে আলাদা তথ্য। ধান, গম, মসলা, ঔষধি, ফলদ গাছ চাষের নানা তথ্য রয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে (www.ais.gov.bd)। শুধু কৃষিবিষয়ক সর্বশেষ তথ্য-সুবিধা দিতেই চালু হওয়া এ ওয়েবসাইটে কৃষিতথ্য, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, কৃষি প্রকাশনাসহ সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়া কৃষিবিষয়ক সমস্যা যেমন পোকার আক্রমণ, ফসলের রোগ ইত্যাদি চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের তথ্যও রয়েছে এই ওয়েবসাইটে। কৃষি পরিবেশ, ফসল উৎপাদন, অন্যান্য কৃষি প্রযুক্তির নানা বিষয়ের পাশাপাশি এ সাইটে কৃষি উন্নয়ন সহযোগী, কৃষি আইন ও নীতিমালা, কৃষিবিষয়ক সংগঠন ও কৃষিবিষয়ক বইয়ের তথ্যও পাওয়া যাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.moa.gov.bd) রয়েছে কৃষিবিষয়ক তথ্যের সম্ভার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ওয়েবসাইটে (www.badc.gov.bd) কৃষি সমাচার, বীজের দাম, বিক্রয়কেন্দ্র ও সারের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ধানসহ নানা কৃষিপণ্যের তথ্যও পাওয়া যাবে এ সাইটে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৈরি ধানবিষয়ক ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার (www.knowledgebank-brri.org) ওয়েবসাইটে ধানের জাত ও চাষ পদ্ধতি, মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা, বীজ উৎপাদন, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। কৃষি গবেষণা ও কৃষিবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনা, জাতীয় কৃষি নীতিমালা ও জাতীয় সার নীতিমালার তথ্যাদি পাওয়া যাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (www.dae.gov.bd) ওয়েবসাইটে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (www.bari.gov.bd) ওয়েবসাইটে কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে রয়েছে গবেষণা তথ্য। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে (www.bina.gov.bd) পাওয়া যাবে কৃষি প্রযুক্তি, মৃত্তিকাবিজ্ঞানসহ নানা বিষয়। বীজসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে বীজ প্রত্যয়ন সংস্থার (www.sca.gov.bd) ওয়েবসাইটে।
সাধারণ ডায়েরি বা জিডি
পুলিশ বিভাগের কার্যক্রমকে ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কার্যক্রমকে অনলাইন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সাধারণ একটি জিডি করার জন্য নাগরিকদের যেন থানায় যেতে না হয়, সে জন্যই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি ঘরে বসেই জিডি করতে পারেন। পাসপোর্ট, ব্যাংকের চেক বই, সার্টিফিকেটসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে গেলে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করা যায়। এ ছাড়া ইভ টিজার, বখাটে, মাদকসেবী বা অপরাধীদের আড্ডাস্থল, অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কিত অভিযোগও অনলাইনে করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গৃহপরিচারিকা নিয়োগ, দারোয়ান নিয়োগ, কেয়ারটেকার ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ বা পলায়ন সম্পর্কে তথ্যও জানানো যাবে। একই সঙ্গে নতুন বা পুরনো ভাড়াটিয়া সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া যাবে এই অনলাইন সেবার আওতায়। অনলাইনে জিডি করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইট www.dmp.gov.bd ঠিকানায় যেতে হবে। এরপর Citizen Help Request-এ ক্লিক করে জিডি-সংক্রান্ত তথ্যাবলি পূরণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ ধানমণ্ডি থানার অধিবাসীরা জিডি করার জন্য 'পুলিশ থানা/ইউনিট' বিভাগ থেকে ধানমণ্ডি নির্বাচন করে নিন। অন্য থানার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করে নিতে হবে। এরপর নাম-ঠিকানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলি পূরণ করে Submit বাটনে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যাবে জিডির তথ্য। স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি শনাক্তকরণ নম্বর ও থানা থেকে কবে ডায়েরি-সংক্রান্ত সত্যায়িত কাগজটি সংগ্রহ করতে হবে তা জানা যাবে। ওই নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ থানা থেকে আপনার সাধারণ ডায়েরির সত্যায়িত কপিটি সংগ্রহ করতে নম্বরটির প্রয়োজন হবে।
অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (http://bris.lgd.gov.bd/pub/) প্রবেশ করুন। এরপর আপনার জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার বিভাগ, জেলা, প্রভৃতি ধাপ পেরিয়ে ওয়ার্ড পর্যন্ত নির্বাচন করুন। অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম প্রথমে বাংলায় ও পরে ইংরেজিতে পূরণের পর প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে 'সংরক্ষণ' বাটনে ক্লিক করুন। সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদনপত্রটি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে স্থানান্তিরত হয়ে যাবে এবং আবেদনকারীর এরপর আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী ধাপে 'প্রিন্ট' বাটনে ক্লিক করলে আবেদনপত্রের মুদ্রিত কপি পাওয়া যাবে। সনদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ওই আবেদনপত্রে নির্দেশিত প্রত্যয়ন সংগ্রহ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপিসহ নিবন্ধক অফিসে যোগাযোগ করুন।
Please Feel free to comment.
No comments:
Post a Comment